|
|
বাংলাদেশে ধানের কুঁড়ার তেল
মোঃ মাহবুবুর রহমান
এম.এস.সি
(ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি)
কেমিস্ট
রিসার্চ এন্ড প্রোডাক্শন ডেভেলপমেন্ট
রশিদ অয়েল মিলস লিঃ
বহরপুর, ঈশ্বরদী, পাবনা।
Website t www.mahbubchemist.webs.com
Email t [email protected]
বৈচিত্রময় এই পৃথিবীতে বিচিত্র উদ্ভিদরাজি, কোনটা ভেষজ গুনে সমৃদ্ধ আবার কোন টা অদ্ভুত রসায়নের সংমিশ্রনে সমৃদ্ধ। এরই মাঝ থেকে মানুষ যুগে যুগে খুজে নিয়েছে তাদের প্রয়োজনীয় উপাদানটিকে। তবে সাধারন ভাবে উপকারী উপাদান খুজে পাওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার, এতে মানুষের মৃত্যু পযর্ন্ত ঘটতে পারে। শত বছরের গবেষনার ফলে মানুষ উপকারী এবং অপকারী রাসায়নিক উপাদান গুলোকে আলাদা করতে পেরেছে।
অপার সম্ভাবনাময় এই বাংলাদেশে প্রকৃতি আমাদের এমন কিছু উপকারী পদার্থ দান করেছে যা অতি গোপনে আমাদের সামনেই বিচরণ করছে, আমাদের অজ্ঞতার কারনে আমরা আজ পযর্ন্ত অনেক কিছুই উন্মোচন করতে পারিনি কিংবা উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আজ আমরা বলতে পারি যে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সফল।ভোজন রসিক বাঙ্গালীর ভোজনের তেল টিও প্রকৃতির দান করা তরল পদার্থ যা উদ্ভিদরাজি ও প্রাণীকুলের দেহাবংশে গুপ্তাবস্থায় আছে, যুগে যুগে আমাদের পূর্ব পূরুষেরা কিছু কিছু উদ্ভিদ ও প্রাণী কে সনাক্ত করতে পেরেছে যা তেল নামক তরল পদার্থটি ধারন করে আছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে তেলের উৎস গুলো ছিল তাদের ধারনারও বাইরে, বর্তমান প্রজন্ম সে সকল উৎসের সন্ধানে আছে।
বাংলাদেশে আজ অবধি যত রকমের ভোজ্য তেল ব্যবহার করা হচ্ছে তার কাচামালের কোন টিতেই বাংলাদেশ স্বয়ং সর্ম্পূন নয়। ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল, পাম তেল ইত্যাদি অন্যতম। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এই তেল গুলোর মধ্যে কোনটির কাচামালই বাংলাদেশে সহজ লভ্য নয়। কাচামাল গুলোকে বিদেশ থেকে আনতে দেশের টাকা বিসর্জন দিতে হয়। সয়াবিন বীজ, পাম অয়েল (অপরিশোধিত;), সূর্য মুখী বীজ আমাদের কে বাইরের দেশ হতে আমদানী করতে হয়, আর সরিষার তেল এমনিতেই অপকারী রাসায়নিক পদার্থ থাকার কারনে এটাকে আমাদের রোজকার ভোজ্যতেলের অন্তর্ভক্ত না করাই উচিত যদিও এর কাচামাল অর্থাৎ সরীষা বীজ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
আজ আমি এমন একটা ভোজ্য তেলের কথা বলব যা নিয়ে আমরা চিন্তাও করতে পারিনি। আর যখন চিন্তা করেছিলাম তখন এর কাচামাল থাকলেও কাচামাল প্রস্তুত করে নিয়ে আসা চারটে খানিক কথা না। ধানের কুড়ার তেল। অনেকে আবার বলবে ধানের কুড়া থেকে আবার তেল হয় নাকি? অসম্ভব ফালতু কথা।
বাংলাদেশ যে অন্যদের থেকে কতটা পিছিয়ে এ কথাতেই প্রমানিত হয়। আমাদের পূর্বের কিছু দেশ যেমন চীন, থাইল্যন্ড, কোরিয়া, জাপান ইত্যাদি দেশ গুলো এরই মধ্যে কয়েকধাপ এগিয়ে গেছে, তাদের কাছে ধানের কুড়ার তেল এখন পরিচিত বিষয়, তারা অভস্ত্য হয়ে গেছে এই তেল ব্যবহারে।সমপূর্ন প্রাকৃতিক এই তেলের গুনাবলীও তাদের অজানা নয়, এই গুনের কারনেই বলা যায় এত তেলের মধ্যে থেকে তারা এই তেল টিকে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশে অপার সম্ভাবনা লক্ষ করা যায় এই তেল উৎপাদনে। কাচামাল যথেষ্ট বললে ভুল হবে বরং উদ্বৃত্ত আছে।স্বয়ংক্রিয় ধানের কলের অন্যতম প্রধান উপজাত ধানের কুড়া। আজ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে স্বয়ংক্রিয় ধানের কল, বিশেষ করে কুষ্টিয়া, যশোর, নোয়াখালি, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রংপুর, টাংগাইল, জামালপুর, নওগা অন্যতম। এছাড়া সাধারন ধানের কলে উৎপাদিত ধানের কুড়া থেকেও তেল উৎপাদন সম্ভব তবে তাতে তেলের পরিমান কম থাকে। বাংলাদেশে উৎপাদিত ধানের কুড়াকে তেলের পরিমানের উপর ভিত্তি করে কয়েকটি ভাগ করা যায়। পালিস, সেমি অটো পালিস, নেটিং পালিস এবং চাকী। পালিসে শতকরা ২৫-২৬ ভাগ পর্যন্ত তেল বিদ্যমান এবং অন্য গুলোতে যথাক্রমে ১৬-১৮%, ১৪-১৫% এবং ৮-১০% পযর্ন্ত তেল থাকে। ধানের কুড়াটিকে মূলত বিভিন্ন ফিড মিলে মাছ, মুরগি, গরু ইত্যাদির খাদ্য তৈরীতে ব্যবহার করা হতো। তবে বতমানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তেল উৎপাদন সম্ভব করা হয়েছে। মূলত দুই ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেল উৎপাদন করা হয়। পেষন এবং দ্রাবক নিষ্কাশন, এর মধ্যে পেষন টি সনাতন পদ্ধতি এটি গ্রাম্য এলাকাতে সয়াবিন বীজ, সরিষার বীজ, সূর্যমুখী বীজ হতে তেল নিষ্কাশনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দ্রবক নিষ্কাশন একটি আধুনিক পদ্ধতি, এই পদ্ধতিতে যে কোন কাচামাল হতে অতি সহজে পেষন অপেক্ষা অধিক তেল নিষ্কাশন করা সম্ভব।ধানের কুড়ার মধ্যে অতি গোপনে যে তেল টি লুকিয়ে আছে তা খুবই নাজুক, একে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় রাখতে হয় নাহলে তেল টি ভেঙ্গে ফ্রি ফ্যাটি এসিড (এফ.এফ.এ
নামক একটা বিষাক্ত পদার্থে পরিনত হয়। ধান হতে কুড়া উৎপাদনের ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই একে তেল উৎপাদনে ব্যবহার করতে হবে নতুবা (এফ.এফ.এ;))বেড়ে গিয়ে তেলের গুনাগুন নষ্ট করে দিবে তবে একে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় রাখলে বেশ কিছুদিন এটা ভালো থাকে। এখানে আমি ধানের কুড়া হতে তেল নিষ্কাশনের পদ্ধতি টি সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরব।
ধানের কুড়াকে প্রথমে বাস্পের সাহায্যে গুটিতে পরিনিত করা হয়, গুটি গুলাকে অনাদ্র বাতাসে ঠান্ডা করা হয়। এরপর একে দ্রাবক নিষ্কাশন চেম্বারে পাঠানো হয় সেখানে দ্রাবক হিসেবে হেক্সেন ব্যবহার করা হয়। এখানে (হেক্সেন ৬৫º সেঃ, পানি ১০০º সেঃ এবং তেল ২৫০ºসেঃ
হেক্সেন, পানি এবং তেল সমস্ফুটন মিশ্রন তৈরী না করায় সহজেই মাল্টি ইফেক্ট ইভাপরেটর এবং সেপারেটর এর সাহায্যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে তেল টিকে পৃথক করা যায়। একে বলা হয় অপরিশোধিত ধানের কুড়ার তেল। এখানে আমরা উপজাত হিসেবে পাই ডি অয়েল্ড রাইস ব্রান (ডি ও বি;), যার বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়, তার মধ্যে উলেখ যোগ্য ফিড মিলে মাছ, মুরগি, গরু ইত্যাদির খাদ্য তৈরী, সিলিকা জেল, বিদ্যুৎ কুপরিবাহী ইট এবং সোডিয়াম সিলিকেট তৈরী ।
এরপর বিভিন্ন ধাপে যথাক্রমে ডিগামিং, নিউট্রালাইজিং, বিচিং, ডিওয়াক্সিং এবং সবশেষ ডিওডোরাইজিং ধাপে একে পরিশোধন করে ভোজ্য তেলে রূপান্তরিত করা হয়। পরিশোধন প্রক্রিয়ায় ফসফরিক এসিড, কষ্টিক সোডা, সাইট্রিক এসিড, বিচিং আর্থ, টনসিল, এক্টিভেটেড কার্বন, ফিল্টার এইড ইত্যাদি রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় যদিও এর কোন টিই অবশেষ তেলের সাথে থাকে না, এগুলো শুধু মাত্র তেলের আপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর অংশ দুর করার কাজে, উজ্বল রং এবং পরিশোধিত তেল সংরক্ষন কে দীর্ঘ মেয়াদী করার কাজে ব্যবহৃত হয়।কাজেই উৎপাদিত তেলটিকে সম্পূর্ন প্রাকৃতিক তেল বলা যায়। এখানে বেশ কয়েকটা উপজাত দ্রব্য পাওয়া যায়, গাম(আঠা;), ওয়াক্স (মোম;), ফ্যাটি এসিড, স্পেন্ট আর্থ, সাবান, এখানে গাম(আঠা;), ওয়াক্স (মোম
ও ফ্যাটি এসিড সাবান উৎপাদনে কাচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, স্পেন্ট আর্থ (পোড়া মাটি
আগর বাতি, মশার কয়েল তৈরী এবং জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশে ধানের কুড়ার তেল খুবই বিরল, ভারত থেকে অল্প কিছু তেল আমদানী হলেও তা থেকে যায় সাধারনের ধরা ছোয়ার বাইরে। বাংলাদেশে যে পরিমান তেল উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে তাও দেশের চাহিদার তুলনায় নগন্য। বর্তমানে বাংলাদেশে রশিদ অয়েল মিলস লিঃ, ঈশ্বরদী, পাবনা ধানের কুড়ার তেল ৫০ টন/২৪ ঘন্টা লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে যা দেশের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। তবে বর্তমানে দেশে আরো কয়েকটি অয়েল মিল নির্মানাধীন আছে, তবে সেগুলো সক্রিয় হলেও দেশের বাজারে এই তেলের চাহিদা হয়তো সিকি ভাগ পূরন করা সম্ভব হবে।
কেন আমরা অন্য তেল বাদ দিয়ে এই তেলটিকে বেছে নিব? এখন আমি সেই বিষয়টিকেই তুলে ধরবো। ধানের কুড়ার তেলে এমন কিছু উপকারী রাসায়নিক দ্রব্য আছে যার গুনেই এই তেল টি অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
১. অরিজ্যানলঃ এ্টা এক ধরনের অতি উচ্চমানের এন্টি অক্সিডেন্ট, এটার কারনে তেল টি অবিকৃত অবস্থায় দীর্ঘ সময় সংরক্ষন করা যায়। এমনকি অধিক তাপমাত্রায় র্দীঘ সময় রান্না করলেও (এফ.এফ.এ
এর পরিমান প্রায়একই থাকে যেটা অন্যান্য তেলের ক্ষেত্রে অসম্ভব। গবেষনায় দেখা গেছে ধানের কুড়ার তেল আনুমানিক ১৪৪ ঘন্টা ধরে রান্না করলেও (এফ.এফ.এ
এর পরিমান প্রায়একই থাকে। বিশেষ করে অন্য তেলে কোন ফাস্ট ফুড ভাজলে দ্বিতীয় দফায় ভাজা খাদ্য টিকে আর স্বাস্থ্য সম্মত বলা যায়না।অথচ এই তেল দ্বারা দীর্ঘক্ষন ভাজলেও ভাজা খাদ্যটিকে স্বাস্থ্য সম্মত বলা যায়। এমন কি ভাজা বা রান্না করা খাদ্যটি কে সাধারন তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষন সংরক্ষন করা যায়।ত্বকে ব্যবহার করলে সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি থেকে ত্বক কে রক্ষা করে।
২. গামা অরিজ্যানলঃ এটা রক্তের পাজমা কোলেস্টেরল এবং কোলেস্টেরল এর শোষন কমিয়ে আনে ফলে আর্টেরিওসক্লেরোটিক ভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।কেটে যাওয়া স্থানে রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে। ইনসুলিন নিয়ন্ত্রন করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে।
৩. ভিটামিন ইঃ এই তেলে তরল অবস্থাতে ভিটামিন ই পাওয়া যায় যা চুল পড়া রোধ করে, প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ত্বক মসৃন করে।
৪. টোকো ট্রাইনলসঃ এ্টাও ভিটামিন ই গোত্রের পদার্থ, এটা একটা প্রাকৃতিক এন্টি অক্সিডেন্ট যা হ্রদপিন্ডের কার্ডিও ভাস্কুলার রোগ কে প্রতিরোধ করে এবং অনেকাংশে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
৫. গামা ও ডেল্টা টোকো ট্রাইনলসঃ এই পদার্থ টি ক্যান্সার কোষ একত্রিত করে এবং টিউমার ধ্বংস করে।
৬. ফাইটিক এবং ফেরুলিক এসিডঃ মাইক্রেফোলিয়াশন প্রবৃদ্ধি ঘটায় যা ত্বকের মেলানিন তৈরীকে নিয়ন্ত্রন করে।
৭. প্রো এ্যনথ্রোসায়ানিডিনসঃ এটা ত্বকের কোলাজেন এবং ইলাস্টিন কে রক্ষা করে ত্বক কে নমনীয় ও কোমল করে তোলে।
৮. ইনোসিটলঃ এটা এক ধরনের শর্করা যার কারনে এই তেল মাথার চুলে ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করে। দ্রুত চুলের বৃদ্ধি ঘটায় এবং চুল পড়া রোধ করে।
৯. ফাইটো স্টেরলঃ এই পদার্থ রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে।
১০. ওলিয়িক এসিড এবং লিনোলিক এসিডঃ এই তেলে এই দুটি এসিডের অনুপাত বেশী থাকাতে এই তেল নিম্ন তাপমাত্রায় ও তরল অবস্থাতে থাকে।
১১. ওমেগা ৬ ঃ ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড ভারসাম্যঃ ধানের কুড়ার তেলে আনুপাতিক হারে ওমেগা ৬ (লিনোলিক এসিড
ফ্যাটি এসিড বেশী থাকে এবং ওমেগা৩ (লিনোলিনিক এসিড
কম থাকে, এই ভারসাম্য রক্ষার ফলে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক এর ঝুকি কমে যায়।
ধানের কুড়ার তেলে এমন কিছু অপকারী রাসায়নিক দ্রব্য নাই যার গুনেই এই তেল টি অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
১. কোলেস্টেরলঃ এতে কোন কোলেস্টেরল নাই যা হৃদরোগের অন্যতম কারন বলে আজ অবধি সর্বজন স্বীকৃত।
২. ট্রান্স ফ্যাটি এসিডঃ এতে কোন ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নাই, এতে করে এই তেলে রান্ন্া করা খাবার দীর্ঘক্ষন সংরক্ষন করা যায়।
ধানের কুড়ার তেলের অন্যান্য গুনঃ
১. ধানের কুড়ার তেলের স্ফটনাংক ২৫০º সেঃ হওয়াতে রান্না করার সময় কোন ধোয়া তৈরী হয়না।
২. দীর্ঘক্ষন সতেজ থাকে।
৩. এই তেলের সান্দ্রতা কম থাকায় রান্না করার সময় খাদ্যে তেলের শোষন অধিক হয় এবং তেল ও লাগে কম।এছাড়া ত্বকে ব্যবহার করলে লোমকূপ দিয়ে সহজেই দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
৪. এটা একটা সেমি ড্রাইং অয়েল তাই কোন পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বকে ব্যবহার করা যায়।
৫. এই তেল সম্পূর্ন রূপে গন্ধ মুক্ত।
৬. এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন জ্বলা পোড়ার সম্ভাবনা গবেষকগন বের করতে পারেন নি।
৭. এই তেল চটচটে না হওয়ায় ত্বকে ব্যবহার করলে কোন অস্বস্থি বা বিরক্ত লাগেনা।
৮. শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ধানের কুড়ার তেলের ব্যবহারঃ
১. রান্না ও ভাজার কাজে দীর্ঘ সময় এই তেলটি ব্যবহার করা যায়।
২. ত্বকের পরিচর্যায় এই তেল টি ব্যবহার করা যায়।
৩. চুলের পরিচর্যায় এই তেল টি ব্যবহার করা যায়।
৪. অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য যেমন মেনথল, ক্যমফোর ইত্যাদি মিশ্রিত করে মাথা ঠান্ডা করা তেল তৈরীতে ব্যবহার করা যায়।
৫. চোখের মলম, লাইট ফেসিয়াল, বডি মইশ্চারাইজার তৈরীতে বেজ অয়েল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
৬. লিকুইড সোপও কসমেটিক্স তৈরী তে ব্যবহার করা যায়।
আজ অবধি ধানের কুড়ার তেল নিয়ে দেশে বিদেশে অনেক গবেষনা হয়েছে, আজ পযর্ন্ত কোন গবেষক এই তেলের উলেখ করার মতো কোন ক্ষতিকারক পদার্থ খুজে বের করতে পারেনি। এই তেলের চিকিৎসা গুন এতই বেশী, এই তেল টি কে আমরা ন্যাচারাল মেডিসিনাল অয়েল ও বলতে পারি। তাই আমি বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলবো আপনারা এই তেল টির ভেষজ গুনাবলী বিবেচনা করে আপনার প্রিয় রোগী টিকে এই তেলটি ব্যবহার করতে উপদেশ দিবেন। হয়তো সাধারণ ঔষধের পাশা পাশি এই তেল টি প্রতিদিন ব্যবহার করলে আরোগ্য লাভ করতে সুবিধা হবে।
Categories: None
The words you entered did not match the given text. Please try again.
Oops!
Oops, you forgot something.